قال الامام باقر (ع ) : بنی الاسلام علی خمس : الصلوة و الزکوة و الصوم و الحج و الولایة. کافی ، ج 2، ص 17
ইমাম বাকের (আ.): ইসলামের স্তম্ভ পাঁচটি: নামায, যাকাত, রোজা, হজ্ব ও বেলায়াত। কাফি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৭।
Share

হোসেইনী দালান পরিচিতি

প্রাচীন ইমামবাড়া

হোসেইনী দালান হলো বাংলাদেশের ঢাকা শহরের অন্যতম প্রাচীনতম পুরাকীর্তি। এটি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর নামে তৈরি করা একটি ইমামবাড়া (হোসেইনীয়াহ)। এটি পুরাতন ঢাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক পুরাকীর্তিগুলোর অন্যতম।

 ঐতিহাসিক পটভূমি

হোসেইনী দালান কেবল একটি প্রাচীন পুরাকীর্তিই নয়;বরং এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছেযেটা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান কর্তৃক পুরাতন ঢাকাশিরোনামের একটি বক্তব্য এবং মুন্সী রহমান আলী তায়েস প্রণীত তাওয়ারিখে ঢাকাগ্রন্থ অনুযায়ী, নিজামাত এস্টেট এর নওয়ারার (নৌকার বহরের) সুপারিনটেনডেন্ট মীর মুরাদ ১০৫২ হিজরিতে (১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) হোসেইনী দালান নির্মাণ করেন। এ সময়ে শাহজাদা শাহ সুজা বাংলার ভাইসরয় (গভর্নর) ছিলেন।

 মীর মুরাদের স্বপ্ন

খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান এবংমুন্সী রহমান আলীর মতো অনেক লেখক কর্তৃকপুরাতন ঢাকা এবং ঢাকার ইতিহাসের ওপর লিখিত গ্রন্থে এসেছে যে,মীর মুরাদ এক রাতে একটি স্বপ্ন দেখেন যে, হযরত ইমাম হোসাইন(আ.) শোক প্রকাশের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন এবং তিনি ইচ্ছা করেছেন যে, যেন মীর মুরাদ একই রকম একটি বাড়ি নির্মাণ করেন (ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের স্মরণে)। মীর মুরাদ পরদিনই বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কে.বি. সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান এর অভিমত অনুসারে, বাস্তবতা হলো, ইমামবাড়া (ইমাম হোসাইন আ.-এর শোকানুষ্ঠানের জন্য ভবন) নির্মাণ একজন শিয়া কর্তৃক প্রশংসার যোগ্য কাজ বলে বিবেচিত হয় এবং মীর মুরাদের মতো একজন ভালো শিয়া সেটাই করেছেন যা প্রত্যেক ভালো শিয়ার কাছ থেকে করার আশা করা হয়

গুরুত্ব

িম্নোল্লিখিত গ্রন্থাবলিতে ঐতিহাসিক হোসেইনী দালান নির্মাণের বিষয়গুলোর বর্ণনা পাওয়া যায় :

*ইনতিখাব-ই-তারিখ জাহাঙ্গীরনগর,ঢাকা- নায়েব নাযিম নুসরাতজাঙ্গ (সুবেদার, জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা) প্রণীত।

*তাওয়ারিখে ঢাকা- মুন্সী রাহমান আলী তায়েস প্রণীত।

*ওল্ড ঢাকা- খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান কর্তৃক প্রদত্ত বক্তৃতা

*ওল্ড ঢাকা- ড. আহমেদ হাসান দানী প্রণীত।

১৯৬৯ সালের ১৭ মার্চ ভারতের লক্ষ্নৌ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সার-ফারাজ অনুযায়ী, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া উপমহাদেশের (পাক-ভারত) অন্যতম প্রাচীন ইমামবাড়া বলে বিবেচিত হয়।

*গ্লিম্পসেস অব ওল্ড ঢাকা- সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ তাইফুর প্রণীত।

 হোসেইনী দালানের চৌহদ্দি (সীমানা)

হোসেইনী দালান ইমামবাড়া ঢাকা শহরের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।ঢাকা শহরের এই অংশটুকুকে পুরাতন ঢাকাবলা হয়। দালানের প্রাচীরের উত্তর দিকে (অর্থাৎ প্রধান প্রবেশপথের দিকে) রাস্তাকেহোসেইনী দালান রোডবলা হয়। দক্ষিণ দিকের এলাকাকে বলা হয় োপখানা। পশ্চিম দিককে বলা হয় বকসি বাজারএবং পূর্ব দিকের নাম নাজিমুদ্দিন রোড

বর্তমান সীমানা প্রাচীর অনুযায়ী হোসেইনী দালানের বর্তমান আয়তন প্রায় ৬.২ বিঘা (৮৯,২৮০ বর্গফুট/ ৮,৪৫৩ বর্গমিটার)। এই আয়তনটিগাছ বাগানটি বাদ দিয়ে যার আয়তন প্রায় ২.৬৮ বিঘা (৩৮,৫৭৫ বর্গফুট/ ৩,৬৫২ বর্গমিটার), যেটা হোসেইনী দালানের সর্বশেষ মুতাওয়াল্লী মরহুম নাওয়াব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ১৯৫৬ সালের ২১শে ডিসেম্বর এএলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি মরহুম পিয়ারু মিয়া সরদারের কাছে বার্ষিক মাত্র ২৫০ রুপী (দুইশ পঞ্চাশ রুপী) দিয়ে ৫০ (পঞ্চাশ) বছরের জন্য লীজ দেন।

যদি এই গা বাগান এভাবে লীজ দেয়া না হতো তাহলে হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার তহবিলে বার্ষিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার সংস্থান হতো, যেটা এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষেত্রে আয়ের একটি স্থায়ী উৎস হতে পারত

দালান (প্রধান ভবন)

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন কমপ্লেক্সটির মধ্যভাগে প্রায় ০.৬৫ বিঘা (৯,৩৮০ বর্গফুট/ ৮৮.০৫ বর্গমিটার) এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ভবনটির দক্ষিণ পাশে ভবনের সাথে লাগানো প্রায় ১.০১ বিঘা (১৪,৫৪৪ বর্গফুট/ ১,৩৭৬.৯৫ বর্গমিটার) এলাকা নিয়ে একটি পুকুর রয়েছে। হোসেইনী দালানের সাথে লাগানো এই পুকুরটি ভবনের প্রধান আকর্ষণ।

প্রধান ভবনটি দোতলা। নিচের তলাটি ফাঁকা;দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের নিচের অংশে কবররয়েছে। দ্বিতীয় তলায় দুটি বড় বারান্দা রয়েছে যার একটি দক্ষিণ দিকে যেটি চারটি গোলাকৃতির পিলারবিশিষ্ট, অপরটি উত্তর দিকে যেটি চারটি বর্গাকৃতির পিলারবিশিষ্ট। দুটি বড় হলরুম এবং দুটি বারান্দা (যারপরিমাপ যথাক্রমে,৪৩০ বর্গফুট/১৩.৫৪ বর্গমিটার এবং ৯৩৫ বর্গফুট/ ৮৮.৫ বর্গমিটার) নামাযের রুম এবং জারি খানা (যেখানে ইমাম হাসান ও হোসাইন (আ.)-এর পতাকাসহ জারি রাখা হয়েছে) হিসাবে ব্যবহৃত হয়। নামাযেরকক্ষটি পাঞ্জেগানা নামায, জুমআ নামায এবং মজলিশের (বিশাল শোকনুষ্ঠান) জন্য ব্যবহৃত হয়। (ইমামগণের (আ.), রাসূলে আকরাম (সা.) ও হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) প্রমুখের) শাহাদাত দিবসের মজলিশগুলোজারি খানায় অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় তলায় আরো তিনটি কক্ষ রয়েছে। নামায রুমের সাথে সংযুক্তএকটি কক্ষকে বলা হয় হুক্কা খানা (২৮৯ বর্গফুট/ ২৭.৪ বর্গমিটার) যা ইমামবাড়ার মূল্যবান দ্রব্যাদি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণের বারান্দার সাথে সংযুক্ত কক্ষটিকে বলা হয় নেশাস্ত গাহ (৩৪০ বর্গফুট/ ৩২.১৫ বর্গমিটার) বা বসার কক্ষ, যেখানে হোসেইনী দালানের কর্মকর্তাগণ বসেন এবং তাঁদের সভাগুলোআয়োজন করেন। নায়েবে নাজিমগণও এখানে তাঁদের সভাগুলো আয়োজন করেন। আগেকার দিনে নায়েবে নাজিমগণও এই কক্ষেই বসতেন।

প্রধান ভবনের দুটি সিঁড়ি রয়েছে, যার একটি প্রশস্ত; এটি পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং এটিই ভবনের প্রধান প্রবেশ পথ। অপরটি পেছন দিকে (পশ্চিমে) যেটা ছোট এবং এটা খাদেম ও অন্যদের কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম দিকে মহিলাদের জন্য একটি নতুন ছোট সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

হুক্কা খানার উপরেই একটি কক্ষ রয়েছে যার নাম বালা খানা (মহিলাদের বসার স্থান) যা ৩৬০ বর্গফুট/ ৩৪ বর্গমিটার, যেখান থেকে মহিলাগণ জারিখানার উপরের দেয়ালের ফাঁক দিয়ে মজলিশ শোনেন ও দেখেন।

 গাজিউদ্দিনের সমাধি

প্রধান সিঁড়ির বিপরীতে পূর্ব দিকে নওয়াব গাজিউদ্দিন হায়দারের সমাধি রয়েছে যেখানে আটটি কবর রয়েছে যাকে মাকবার-এ নায়েবে নাজিমবলা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন নায়েবে নাজিমের নাম (তাঁদের সময়কালসহ) নিচে দেয়া হলো :

*নওয়াব নুসরাত জাঙ্গ, ১৭৯৬-১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব শামসুদ্দৌলা, ১৮২৩-১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব কামারুদ্দৌলা, ১৮৩২-১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব গাজিউদ্দিন হায়দার, ১৮৩৬-১৮৪২খ্রিস্টাব্দ।

মাকবারাটি ১৯৮৫ সালের কোন এক সময়ে ভেঙ পড়ে। এখন ভবনের সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু তহবিলের অভাবে ছাদসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

নওবাত খানা (ঢোল বাজানোর স্থান)

প্রধান প্রবেশ পথের উত্তরে প্রায় ১,০৫৬ বর্গফুট/ ১০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত দুই তলাবিশিষ্ট ভবনকে নওবাত খানাবলা হয়;আগেকার দিনে যখন লাউড স্পিকার ইত্যাদি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না তখন জনসাধারণকে মুহররমের মজলিশের সময় সম্পর্কে অবগত করার জন্য এখান থেকে নওবাত (ঢল) বাজানো হতো। হোসেইনী দালানের সম্মুখে এটি মেহরাববিশিষ্ট একটি সুন্দর ভবন।

 গাঞ্জ-ই শহীদান এবং কোতোয়ালি ভবন

হোসেইনী দালান কমপ্লেক্সে নওবাত খানার সাথেই প্রায় ১,৮০০ বর্গফুট/ ১৭০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে একটি ভবন আছে। এই ভবনের দুটি অংশ রয়েছে। এর একটি উত্তরমুখী এবংএর ২০-২৫ ফুট একটি মেহরাব রয়েছে যেটাকে গাঞ্জ-ই শহীদানবলে, যেখানে ১৫ ফুটবিশিষ্ট তাজিয়া রাখা হয় যা প্রতি বছর আশুরার মিছিলের (১০ মুহররম)সময় বের করা হয়। দ্বিতীয় অংশটি পূর্বমুখী;টাকে কোতোয়ালি (মুহররমের সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের থাকার স্থান) বলে। এই ভবনের দ্বিতীয় তলা মুহররমের সময় পুলিশ ফোর্স থাকার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং নিচ তলা ব্যবহৃত হয় যুলযানাহকে (ইমাম হোসাইন (আ.)-এর ঘোড়ার স্মরণে সাজানো ঘোড়া) রাখার জন্য- যে ঘোড়াটিকে মুহররমের ৮ম, ৯ম এবং আশুরা (১০ম)- এই তিনটি দিবস মুহররম মিছিলের জন্য বের করা হয়।

 পশ্চিম দিকে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন সংলগ্ন পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই ভবনটি ১৯৮৫ সালে কিছুসংখ্যক বিদেশী ব্যক্তিত্ব এবং(হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির) চেয়ারম্যান জনাব এম.এম. ইসপাহানী সাদরীর অনুদানে নির্মিত হয়। এটি একটি দ্বিতল ভবন যার নিচতলায় টয়লেটসহ দুটি বড় কক্ষ রয়েছে এবং দ্বিতীয় তলায়ও দুটি বড় কক্ষ রয়েছে। এই ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৯০০ বর্গমিটার।

নিচতলার কক্ষগুলো মাদরাসা হিসাবে ব্যবহৃত হয় যেখানে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত বালক ও বালিকাদের কোরআন ও দীনিয়াত তথা মৌলিক ধর্ম শিক্ষা দেয়া হয়। আশপাশের এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ জন ছাত্রছাত্রী সন্ধ্যায় এ ক্লাসে উপস্থিত হয়। দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ রয়েছে, একটি কক্ষ পেশ ইমাম ও জুমআর নামাযের ইমামের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং অপর কক্ষটি সুপারিনটেনডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) এর অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

গোসল খানা

আধুনিক পদ্ধতিতে টাইলসের মেঝে, দেয়াল ইত্যাদি দিয়ে পুরাতন ছোট টিনশেডবিশিষ্ট গোসল খানা (গোসল খানা ও মৃতদেহ ধোয়ার স্থান) সংস্কারের জন্য প্রথম দায়িত্ব নেন জনাব মোহাম্মাদ আলী, কিন্তু কিছু অনিবার্য কারণে তিনি সম্পূর্ণ কাজের ৪০% ভাগও সম্পন্ন করতে পারেননি।

যাহোক, হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য জনাব মীর এনায়েত আলী অবশিষ্ট কাজ খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেন। উঁচু প্লাটফর্ম এবং একজন মানুষের উচ্চতার সমান করে টাইলসের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। মৃতদেহ ধোয়ার জন্য যে ৩ (তিন) ধরনের পানির সংযোগ প্রয়োজন তাও বসানো হয়েছে।

 দালান ও নওবাত খানার মধ্যবর্তী প্রাঙ্গণ

দালানের ভবন এবং নওবাত খানার মধ্যে ২৩০ ফুট (উত্তর-দক্ষিণ) x ১৫০ ফুট (পশ্চিম-পূর্ব) অর্থাৎ ৩৪,৫০০ বর্গফুট (৩,৩৬৬.২৯ বর্গমিটার) এলাকায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ রয়েছে। এই খোলা জায়গা ছাড়া প্রায় ১২,২৪০ বর্গফুট/ ১,১৫৮.৮ বর্গমিটার এলাকা শিয়া ইসনা আশারীদের জন্য কবরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ৮ ফুট প্রশস্ত কাঁচা রাস্তাএই প্রাঙ্গণকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। মীর্জা আব্বাস মেয়র থাকাকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৪ সালে একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে।

 পুকুর এবং উত্তর দিকের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থান

পুকুর এবং উত্তর দিকের খোলা জায়াগায় প্রায় ১৬০ ফুট (পশ্চিম-পূর্ব) x ৪২ ফুট (দক্ষিণ-উত্তর) অর্থাৎ ৬,৭২০ বর্গফুট/ ৬৩৬.২২ বর্গমিটার স্থানও কবরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

 দক্ষিণ গেট এবং পূর্ব দিকের দেয়া ও পুকুরের মধ্যবর্তী স্থান

তোপখানা রোডের দিক দিয়ে অনুরাগীদের প্রবেশ করার জন্য দক্ষিণের গেট ব্যবহৃত হয়। পুকুরের পাড় এবং পূর্ব দিকের দেয়ালের মধ্যকার প্রায় (৩২ x ১৮২) ফুট অর্থাৎ ৬,০০৬ বর্গফুট/ ৫৬৮.৬২ বর্গমিটার জায়গা দক্ষিণ গেট দিয়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 উত্তর দিকের সড়কের সীমানা প্রাচীর এবং নওবাত খানা, গাঞ্জে শহীদান ভবনের মধ্যবর্তী খোলা জায়গা

প্রধান প্রবেশ পথের সামনে খোলা জায়গার পরিমাণ প্রায় (১৬২ x ২৭)ফুটঅর্থাৎ ৪,৩৭৩ বর্গফুট/ ৪১৪.১১ বর্গমিটার। ১৯৮৫-৮৬ সালে এই স্থানে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা ডিআইটি (ঢাকা উন্নয়ন ট্রাস্ট) কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। কারণ, তাদের অভিমত অনুযায়ী এটি হোসেইনী দালানের সৌন্দর্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা

প্রাচীন সৌন্দর্যমণ্ডিত হোসেইনী দালানের প্রতিষ্ঠাতা মীর মুরাদের মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই স্বাধীনভাবে তাঁর নিজের তহবিল থেকে হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কাজ পরিচালনা করতেন।

১১৩১ হিজরিতে মীর মুরাদের মৃত্যুর পর থেকে ঢাকার নায়েবে নাজিমগণ হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন এবং খরচ নির্বাহের জন্য খালসাথেকে বাৎসরিক ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশ) রুপী দিতেন (খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান, মুন্সী রহমান আলী তায়েস, ড. ধানী প্রণীত গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত)। মুতাওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী নায়েবে নাজিমগণের কয়েকজনের নাম এ প্রবন্ধেরই গাজিউদ্দিনের সমাধিশিরোনামের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশেষ নায়েবে নাজিম গাজিউদ্দিন হায়দারের মৃত্যুর পর হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনায় একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। একটি পর্যায়ে যখন মুহররম নিকটবর্তী হলো তখন হোসেইনী দালানের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকার তকালীন কালেকটর ব্রিটিশ সম্রাটের নিযুক্ত তকালীন বাংলার লর্ড অকলোন-এর কাছে একটি চিঠি লেখেন, যিনি হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার জন্য কলকাতা থেকে বার্ষিক ২,৫০০ রুপী অনুমোদন করেন মরহুম গাজিউদ্দিন হায়দারের বাসরিক ভাতা থেকে।

১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে অনানুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি তৈরি করা হয়। এই কমিটির প্রধান ছিলেন নওয়াব খাজা আলীমুল্লাহ (ঢাকার নওয়াব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা)। আলীমুল্লাহর মৃত্যুর পর খাজা আবদুল গনি তত্ত্বাবধায়ক হন এবং পরবর্তীকালে একটি অফিসিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে (অর্ডার নং ২৬৭৮ (রাজনৈতিক), সরকারি অর্ডার ডেট ১৮ই আগস্ট, ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ) খাজা আহসানুল্লাহ হোসেইনী দালানের ঋণ প্রশাসক নিযুক্ত হন। তাঁর সময়ে একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয় এবং দালানের উত্তর দিক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাজা আহসানুল্লাহ এটি পুনঃনির্মাণ করেন এবং পূর্ব দিকের অংশ সরিয়ে ফেলেন। রূপার জারি মোবারক- যা প্রতি বছর মুহররমের দশটি দিন কাঠের জারিকে মোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তা খাজা সলিমুল্লাহর অনুদানে প্রাপ্ত। নওয়াব পরিবার কর্তৃক হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার পরিসমাপ্তি ঘটে খাজা হাবিবুল্লাহর মৃত্যুর মাধ্যমে (পাদুখাপ কর্তৃক প্রকাশিত, মোস্তফা কামাল রচিত হোসেইনী দালানগ্রন্থ থেকে নেয়া, প্রকাশকাল ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ)

১৯৫৯ সালে নওয়াব হাবিবুল্লাহর ইন্তেকালের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নিম্নোক্ত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে :

*জনাব (বিচারপতি) এম. এ. ইসপাহানী (হাইকোর্টের জজ)- চেয়ারম্যান

*অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব)- পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

*মেজর নওয়াব খাজা হাসান আসকারী- সদস্য

*হাজী গোলাম হোসেন সিরাজী- সদস্য

জনাব (বিচারপতি) এম. এ. ইসপাহানীর পদত্যাগের পর ড. সাইয়্যেদ এজাজহোসাইন জাফরী চেয়ারম্যান হন। তাঁর মৃত্যুর পর এম. এ. ইসপাহানী পুনরায় চেয়ারম্যান হন।

 বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ব্যবস্থাপনা কমিটি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নিম্নোক্তভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি পনুর্গঠন করা হয় :

*জনাব সাইয়্যেদ ইশতিয়াক আহমেদ- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল

*জনাব মীর্জা আলী এ. সিরাজী- সদস্য

*ড. সাইয়্যেদ ওয়াকীল আহমেদ- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ মনজুর হোসাইন- সদস্য

*অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব)-পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

এটি ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের (শাখা-৫) অর্ডার নং ২৭৩, তারিখ ১০ জুন, ১৯৭৫ অনুযায়ী

 উপ-কমিটির গঠন

হোসেইনী দালানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৯৭৫ সালেই নিম্নোক্ত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটি (কার্যনির্বাহী কমিটি) গঠন করে :

*জনাব মীর্জা শামসাদ আলী- সভাপতি, হোসেইনী দালানের সুপারিনটেনডেন্ট।

*জনাব সাইয়্যেদ আকরাম হোসাইন- সদস্য/ সচিব

*জনাব মীর এনায়েত আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ সাফদার আলী- সদস্য

*জনাব এম. এম. সাদেক- সদস্য

কার্যত এই উপ-কমিটিই হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত।

 হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থায়ন

৩৭৫ বছর পরও হোসেইনী দালানের বার্ষিক খরচ নির্বাহের জন্য সরকারি মঞ্জুরী মাত্র ২৬০০ (দুই হাজার ছয় শত) টাকা যা হোসেইনী দালানের দশ দিনের খরচ নির্বাহের জন্যও যথেষ্ট নয়।

কর্মচারীদের বেতন বা মজুরি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাৎসরিক চুনকাম, মুহররমের মিশিল, মজলিশ অনুষ্ঠান ইত্যাদি বাবদ বাৎসরিক বিপুল খরচের পরিমাণ হলো প্রায় ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা যাচেরাগী বাক্স-এর মাধ্যমে (প্রায় তিন লাখ টাকা বাৎসরিক)এবং অন্যান্য ভক্ত-অনুরাগীদের অনুদানের মাধ্যমে মিটানো হয়।

পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয় না, কেবল অতি জরুরি বিষয়াদির ক্ষেত্র ছাড়া

নতুন নির্মিত উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর (১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ)

মহল্লার লোকদের দ্বারা উন্মুক্ত জায়গার অপব্যবহার রোধ করার জন্য ১৯৮৯ সালে একজন অনুদানদাতার ১,০৫,০০০ (এক লাখ পাঁচ হাজার) টাকা অনুদানে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। অবশিষ্ট টাকা অনুদান দেন মরহুম চেয়ারম্যান জনাব এম. এম. ইসপাহানী এবং অন্যরা।

হোসেইনী দালানের ভিত্তিপ্রস্তরের ওপরের লেখনি

হোসেইনী দালানের প্রধান সিঁড়ির নিকট স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে নিচের বাক্যটি খোদাই করা রয়েছে : সেই সম্রাটের রাজত্বকালেযার গৌরব মহান, যাঁর খ্যাতি বিশ্বজোড়া, যাঁর রাষ্ট্র শক্তিশালী। সাইয়্যেদ মুরাদ এক হাজার বায়ান্ন হিজরিতেএই শোক স্মরণের ভবন নির্মাণ করেন।

*জনাব মীর্জা আলী বেহরুজ ইসপাহানী,চেয়ারম্যান

*অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (রাজস্ব)-পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

*জনাব এম. এম. ফায়েজ সিরাজী- সদস্য

*ক্যাপ্টেন সাইয়্যেদ আলী আসগার রিজভী-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ আলী জওহার রিজভী- সদস্য

*জনাব মীর এনায়েত আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ তাকী মোহাম্মাদ- সদস্য

*জনাব আখতার হোসাইন-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ বশীর আলী-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ইলতেফাত হোসাইন-সদস্য

*জনাব এম. এম. বাদশা সিরাজী-সদস্য (পদাধিকার বলে), উপদেষ্টা, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া

*জনাব এম. এম. ফিরোজ হোসাইন- সুপারিনটেনডেন্ট, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া

উপ-কমিটির সদস্যগণ

*জনাব মীর্জা ফিরোজ হোসাইন- সুপারিনটেনডেন্ট।

*জনাব মীর্জা সাইয়্যেদ ইমদাদ আলী

*জনাব সাইয়্যেদ নাজিম আলী

*জনাব মীর্জা মো. আকীল

*জনাব সাইয়্যেদ সাজিদ হোসাইন

*জনাব সাইয়্যেদ মেহদী রেজা

*জনাব মীর জুলফিকার আলী

*জনাব মীর্জা ফররুকহোসাইন

*জনাব সাইয়্যেদ বাকের রেজা মাজলুম

*জনাব আবদুল হাই

*জনাব সাইয়্যেদ আতহার আলী

*জনাব সাইয়্যেদ ফাসীহ হোসইন

*জনাব সাইয়্যেদ ফিদা হোসাইন তাবাতাবায়ী

হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার বহৎ মেরামত এবং উন্নয়ন কমিটি

*জনাব মীর এনায়েত আলী- চেয়ারম্যান

*জনাব মীর্জা জহির আলী-ভাইস চেয়ারম্যান

*জনাব সাইয়্যেদ ফিদা হোসাইন-সদস্য

*জনাব মীর্জা আহমেদ হাসান সিরাজী-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ আতহার আলী-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ফাইয়াজ হোসাইন-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ রওশন হোসাইন- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ওয়াজেদ হোসাইন-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ শাহ আলী আবু-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ইমরোজ আলী-সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ জামাল বেবাহানী-সদস্য

হোসেইনী দালানের উন্নয়ন (জুলাই ১৯৯৩- জুন ১৯৯৪ খ্রি.):

হোসেইনী দালান প্রাঙ্গণের উত্তর গেট থেকে পাকা রাস্তা:

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র জনাব মীর্জা আব্বাস এমপি, যিনি ১৪১২ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রি.) পবিত্র ইমামবাড়া পরিদর্শন করেন, তিনি নিজেই প্রত্যক্ষ করেন যে, হাজারো ভক্ত-অনুরক্ত হাঁটু পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত রাস্তা দিয়েহাঁটছে। জনাব মীর্জা আব্বাস (এমপি) হাজারো ভক্ত-অনুরক্তের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ অনুধা করেন এবং হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানান যে, তিনি একটি উঁচু পাকা রাস্তা তৈরি করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। দুই বছরের মধ্যে মীর্জা আব্বাস তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন। এমন একটি মহৎ কাজের জন্য মীর্জা আব্বাসের ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

শেফা খান হিসাবে কোতোয়ালি ভবনের পুনঃনির্মা

হোসেইনী দালানের উত্তর-পশ্চিম দিকের প্রায় ৮০% কাঠামো ৯০-এর দশকে ভেঙে পড়ে। এটাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং একই আকৃতির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়। ভবনের ভিত এবং নিচ তলার নির্মাণ খরচ হোসেইনী দালানের তহবিল থেকে বহন করা হয়। দ্বিতীয় তলার পুরোটাই হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম এম. এম. ইসপাহানীর (সাদরী) সৌজন্যে হোসেইনীয়া ট্রাস্ট কর্তৃক নির্মিত হয়। তখন এই ভবনটিকে শেফা খানায় (বিনামূলে চিকিৎসাখানা) পরিবর্তন করা হয় এবং ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের মাননীয় প্রথম সেক্রেটারী জনাব গর্জিযাদে এবং জনাব এম. এম. ইসপাহানী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়। দারুল কোরআন ফাউন্ডেশনকে তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে ২ (দুই) জন ডাক্তার, একজন জি.পি. এবং একজন দন্তচিকিৎসক প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন অধিক রোগীকে সেবা দান করেন। এখান থেকে দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূলে ঔষধও সরবরাহ করা হয়।

নওবাত খানার সংস্কার এবং হোসেইনী দালান লাইব্রেরির স্থানান্তর

ঢাকার দারুল কোরআন ফাউন্ডেশন নওবাত খানাকে সুন্দরভাবে সংস্কার করে এবং এই ভবনেলাইব্রেরিটিকে স্থানান্তর করে। ১৪১৫ হিজরির ৩রা সফর (১৩ই জুলাই, ১৯৯৪) হযরত ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.)-বাকের-উল উলুম-এর শুভ জন্মদিনে দারুল কোরআন ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাব এম. এম. ইসপাহানী, হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ এবং কিছুসংখ্যক বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ১৪১৫ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে (আগস্ট, ১৯৯৪ খ্রি.) আনুষ্ঠানিকভাবে এই চমৎকার লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন হযরত আয়াতুল্লাহ শাহরুখী।

উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকের প্রধান অভ্যন্তরীণ রাস্তার বাম ও ডান পাশে ধনুকাকৃতির সীমান প্রাচীর

হোসেইনী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা নুরুস সাকলায়েন জনকল্যাণ সংস্থা ভক্তদের অনুদানের মাধ্যমে প্রধান অভ্যন্তরীণ রাস্তার উভয় পাশে বাগানসমৃদ্ধ এই প্রাচীরটি তৈরি করে।

হোসেইনী দালানের পুকুরের পঃনির্মাণ ও মেরামত

হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার পুকুরের তিন দিকের দেয়াল ও সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে খুবই নাজুক অবস্থায় ছিল;২০০১ সালে এটার পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং মেয়র মো. হানিফের নির্দেশনায় এবং ওয়ার্ড কমিশনার মরহুম গোলাম মোর্শেদের প্রচেষ্টায় ২০০৩-২০০৪ সালেএর কাজ শেষ হয়। প্রাঙ্গণের বর্ধিত সৌন্দর্যে এখন এটি একটি নতুন রূপ পেয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন হোসেইনী দালান কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকের দেয়াল ঘেঁষে ভক্ত-অনুরক্তদের জন্য টয়লেটও নির্মাণ করে দেয়

নতুন উন্নয়ন (১৯৯৬-২০০৫ খ্রিস্টাব্দ) : প্রধান ভবনের মেরামত,সংস্কার এবং পুনঃনির্মাণ

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন ১৯৮০ সাল থেকে একটি খারাপ অবকাঠামো এবং ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। প্রতি বছর হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির সীমিত আর্থিক সামর্থ্য দ্বারা ছোটখাটো মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হতো, কিন্তু ছাদ এ খারাপ অবস্থায় ছিল যে, আশঙ্কা করা হতো, আল্লাহ না করুন, যে কোন দিন তা ভেঙে পড়বে। যা হোক, ১৯৯৬ সালে ছাদ, সিলিং এবং ভবনের অন্যান্য অংশের মেরামত ও সংস্কারের জন্য সার্বিকভাবে একটি পরিকল্পনা করা হয়। এই ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার জন্য মাঝে মাঝেই দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী সকল ভক্ত-অনুরক্তের কাছে আর্থিক সহায়তা করার জন্য আবেদন জানানো হয়। হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য ১৯৯৫ সালে ইরান ভ্রমণ করেন। তিনি সেখানে তৎকালীন মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব হাশেমী রাফসানজানীসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সৌভাগ্যবশত মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব হাশেমী রাফসানজানী যখন ১৯৯৬ সালে ঢাকা সফরে আসেন তখন তিনি তাঁর মহামান্য সহধর্মিনী খানম রাফসানজানীকে হোসেইনী দালান ইমামবাড়া পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন হোসেইনী দালানের প্রধান ভবনের মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা অনুদান প্রদানকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তিত্ব। এরপর হযরত এস. এম. নাকী শাহরুখী মাঝে মাঝেই অনুদান দিতেন। এরপর হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম সাদরী ইসপাহানীর বিশাল অনুদান এবং অধিকাংশ মুমিনা এতে শরীক হন। পুনঃনির্মাণ, মেরামত, সংস্কার, রং করা ইত্যাদি কাজে ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে প্রায় ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা ব্যয় করা হয়। পুরাতন স্থাপত্য নকশা বজায় রেখেই পুরো ছাদ, সিলিং, দেয়াল, মেঝে ইত্যাদি পুনঃনির্মাণ, মেরামত বা সংস্কার করা হয়। তিনটি তলায় (দুটি প্রধান কক্ষ ও উত্তর দিকের বারান্দায়) এবং প্রধান সিঁড়ির দিকে পূর্ব পার্শ্বের বারান্দায় মোজাইকের কাজ করা হয়। হযরত আয়াতুল্লাহ শাহরুখীর সৌজন্যে টাইল্‌স দিয়ে অভ্যন্তর ভাগের দেয়ালের ডেকোরেশন করা হয়। তিনি এ বিশেষায়িত কাজের জন্য ইরান থেকে কারিগরদের নিয়ে আসেন। তিনি একটি চমৎকার অলংকৃত বাতির ঝাড়ও অনুদান দেন। আরেকটি বাতির ঝাড় একজন ভক্ত দান করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির নিম্নলিখিত পরিকল্পনাগুলো রয়েছে :

গাঞ্জ-এ শহীদান ভবনের পুনঃনির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার- যেটা খারাপ ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোন দিন ভেঙে পড়তে পারে। এর জন্য আনুমানিক ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার অধিক প্রয়োজন হবে।

শেফা খানাকে (কোতোয়ালি ভবন) চতুর্থ তলা পর্যন্ত বর্ধিতকরণ।

পশ্চিম পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ বানানো, বর্তমানে যেখানে ইমাম-ই জুমআবসবাস করেন এবং যেখানে হোসেইনী দালানের অস্থায়ী অফিস রয়েছে, যেটা হোসেইনী দালানের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং সভাগুলোও অনুষ্ঠিত হয়।

গাঞ্জ-এ শহীদান ভবনের উত্তর-পশ্চিম কোনার নিকট নিরাপত্তা রক্ষীদের থাকার জন্য টয়লেটসহ একটি ছোট কক্ষ বানানো।

হোসেইনী দালানের দারোগাগণ (সুপারিনটেনডেন্ট)

ক্র.নং

নাম

সময়কাল

মরহুম মীর এমদা আলী

১৯ শতকের মধ্যভাগ

মরহুম সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ আলী আলীয়াস মামদু মীর্জা

সম্ভবত ১৯ শতকের শেষাংশ

মরহুম আগা মীর্জা মোহাম্মাদ কাযেম সিরাজী

মামদু মীর্জার পর থেকে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ জাফর সিরাজী আলীয়াস জুলকাদার (জুলু মিয়া)

১৯১৫-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ হাশেম সিরাজী

তাঁর পিতার (জুলু মিয়া) মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ দিন

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ হোসাইন

১৯৫২-১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা শামসাদ আলী

১৯৭৩-১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

জনাব এম. এম. বাদশা সিরাজী

১৯৯৫-২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

জনাব মীর্জা ফিরোজ হোসাইন

বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট (নিয়োগপ্রাপ্তির দিন ১লা এপ্রিল ২০০৭)

হালনাগাদ(সর্বশেষ আপডেট): ১০-১২-২০১২ ইং।

সূত্রসমূহ :

১। হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার সুপারিনটেনডেন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য

২। হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জনাব এম. এম. ফায়েজ সিরাজী কর্তৃক প্রণীত পুস্তিকাহোসেইনী দালান ২০০৬থেকে সংগৃহীত।

অনুবাদ:

মো: আসিফুর রহমান।

(সদস্য, সম্পাদনা পরিষদ নিউজ লেটার)

হোসেইনী দালান পরিচিতি

প্রাচীন ইমামবাড়া

হোসেইনী দালান হলো বাংলাদেশের ঢাকা শহরের অন্যতম প্রাচীনতম পুরাকীর্তি। এটি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর নামে তৈরি করা একটি ইমামবাড়া (হোসেইনীয়াহ)। এটি পুরাতন ঢাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক পুরাকীর্তিগুলোর অন্যতম।

 

ঐতিহাসিক পটভূমি

হোসেইনী দালান কেবল একটি প্রাচীন পুরাকীর্তিই নয়; বরং এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে যেটা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান কর্তৃক পুরাতন ঢাকা  শিরোনামের একটি বক্তব্য এবং মুন্সী রহমান আলী তায়েস প্রণীত তাওয়ারিখে ঢাকা গ্রন্থ অনুযায়ী, নিজামাত এস্টেট এর নওয়ারার (নৌকার বহরের) সুপারিনটেনডেন্ট মীর মুরাদ ১০৫২ হিজরিতে (১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) হোসেইনী দালান নির্মাণ করেন। এ সময়ে শাহজাদা শাহ সুজা বাংলার ভাইসরয় (গভর্নর) ছিলেন।

 

মীর মুরাদের স্বপ্ন

খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান এবং মুন্সী রহমান আলীর মতো অনেক লেখক কর্তৃক পুরাতন ঢাকা এবং ঢাকার ইতিহাসের ওপর লিখিত গ্রন্থে এসেছে যে,  মীর মুরাদ এক রাতে একটি স্বপ্ন দেখেন যে, হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) শোক প্রকাশের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন এবং তিনি ইচ্ছা করেছেন যে, যেন মীর মুরাদ একই রকম একটি বাড়ি নির্মাণ করেন (ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের স্মরণে)। মীর মুরাদ পরদিনই বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কে. বি. সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান এর অভিমত অনুসারে, বাস্তবতা হলো, ইমামবাড়া (ইমাম হোসাইন আ.-এর শোকানুষ্ঠানের জন্য ভবন) নির্মাণ একজন শিয়া কর্তৃক প্রশংসার যোগ্য কাজ বলে বিবেচিত হয় এবং মীর মুরাদের মতো একজন ভালো শিয়া সেটাই করেছেন যা প্রত্যেক ভালো শিয়ার কাছ থেকে করার আশা করা হয়

 

গুরুত্ব

িম্নোল্লিখিত গ্রন্থাবলিতে ঐতিহাসিক হোসেইনী দালান নির্মাণের বিষয়গুলোর বর্ণনা পাওয়া যায় :

* ইনতিখাব-ই-তারিখ জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা- নায়েব নাযিম নুসরাতজাঙ্গ (সুবেদার, জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা) প্রণীত।

*তাওয়ারিখে ঢাকা- মুন্সী রাহমান আলী তায়েস প্রণীত।

*ওল্ড ঢাকা- খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান কর্তৃক প্রদত্ত বক্তৃতা

*ওল্ড ঢাকা- ড. আহমেদ হাসান দানী প্রণীত।

১৯৬৯ সালের ১৭ মার্চ ভারতের লক্ষ্নৌ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সার-ফারাজ অনুযায়ী, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া উপমহাদেশের (পাক-ভারত) অন্যতম প্রাচীন ইমামবাড়া বলে বিবেচিত হয়।

*গ্লিম্পসেস অব ওল্ড ঢাকা- সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ তাইফুর প্রণীত।

 

হোসেইনী দালানের চৌহদ্দি (সীমানা)

হোসেইনী দালান ইমামবাড়া ঢাকা শহরের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা শহরের এই অংশটুকুকে পুরাতন ঢাকা বলা হয়। দালানের প্রাচীরের উত্তর দিকে (অর্থাৎ প্রধান প্রবেশপথের দিকে) রাস্তাকে হোসেইনী দালান রোড বলা হয়। দক্ষিণ দিকের এলাকাকে বলা হয় োপখানা। পশ্চিম দিককে বলা হয় বকসি বাজার এবং পূর্ব দিকের নাম নাজিমুদ্দিন রোড

বর্তমান সীমানা প্রাচীর অনুযায়ী হোসেইনী দালানের বর্তমান আয়তন প্রায় ৬.২ বিঘা (৮৯,২৮০ বর্গফুট/ ৮,৪৫৩ বর্গমিটার)। এই আয়তনটি গাছ বাগানটি বাদ দিয়ে যার আয়তন প্রায় ২.৬৮ বিঘা (৩৮,৫৭৫ বর্গফুট/ ৩,৬৫২ বর্গমিটার), যেটা হোসেইনী দালানের সর্বশেষ মুতাওয়াল্লী মরহুম নাওয়াব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ১৯৫৬ সালের ২১শে ডিসেম্বর এ এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি মরহুম পিয়ারু মিয়া সরদারের কাছে বার্ষিক মাত্র ২৫০ রুপী (দুইশ পঞ্চাশ রুপী) দিয়ে ৫০ (পঞ্চাশ) বছরের জন্য লীজ দেন।

যদি এই গা বাগান এভাবে লীজ দেয়া না হতো তাহলে হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার তহবিলে বার্ষিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার সংস্থান হতো, যেটা এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষেত্রে আয়ের একটি স্থায়ী উৎস হতে পারত

দালান (প্রধান ভবন)

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন কমপ্লেক্সটির মধ্যভাগে প্রায় ০.৬৫ বিঘা (৯,৩৮০ বর্গফুট/ ৮৮.০৫ বর্গমিটার) এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ভবনটির দক্ষিণ পাশে ভবনের সাথে লাগানো প্রায় ১.০১ বিঘা (১৪,৫৪৪ বর্গফুট/ ১,৩৭৬.৯৫ বর্গমিটার) এলাকা নিয়ে একটি পুকুর রয়েছে। হোসেইনী দালানের সাথে লাগানো এই পুকুরটি ভবনের প্রধান আকর্ষণ।

প্রধান ভবনটি দোতলা। নিচের তলাটি ফাঁকা; দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের নিচের অংশে কবর রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় দুটি বড় বারান্দা রয়েছে যার একটি দক্ষিণ দিকে যেটি চারটি গোলাকৃতির পিলারবিশিষ্ট, অপরটি উত্তর দিকে যেটি চারটি বর্গাকৃতির পিলারবিশিষ্ট। দুটি বড় হলরুম এবং দুটি বারান্দা (যার পরিমাপ যথাক্রমে,৪৩০ বর্গফুট/১৩.৫৪ বর্গমিটার এবং ৯৩৫ বর্গফুট/ ৮৮.৫ বর্গমিটার) নামাযের রুম এবং জারি খানা (যেখানে ইমাম হাসান ও হোসাইন (আ.)-এর পতাকাসহ জারি রাখা হয়েছে) হিসাবে ব্যবহৃত হয়। নামাযের কক্ষটি পাঞ্জেগানা নামায, জুমআ নামায এবং মজলিশের (বিশাল শোকনুষ্ঠান) জন্য ব্যবহৃত হয়। (ইমামগণের (আ.), রাসূলে আকরাম (সা.) ও হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) প্রমুখের) শাহাদাত দিবসের মজলিশগুলো জারি খানায় অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় তলায় আরো তিনটি কক্ষ রয়েছে। নামায রুমের সাথে সংযুক্ত একটি কক্ষকে বলা হয় হুক্কা খানা (২৮৯ বর্গফুট/ ২৭.৪ বর্গমিটার) যা ইমামবাড়ার মূল্যবান দ্রব্যাদি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণের বারান্দার সাথে সংযুক্ত কক্ষটিকে বলা হয় নেশাস্ত গাহ (৩৪০ বর্গফুট/ ৩২.১৫ বর্গমিটার) বা বসার কক্ষ, যেখানে হোসেইনী দালানের কর্মকর্তাগণ বসেন এবং তাঁদের সভাগুলো আয়োজন করেন। নায়েবে নাজিমগণও এখানে তাঁদের সভাগুলো আয়োজন করেন। আগেকার দিনে নায়েবে নাজিমগণও এই কক্ষেই বসতেন।

প্রধান ভবনের দুটি সিঁড়ি রয়েছে, যার একটি প্রশস্ত; এটি পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং এটিই ভবনের প্রধান প্রবেশ পথ। অপরটি পেছন দিকে (পশ্চিমে) যেটা ছোট এবং এটা খাদেম ও অন্যদের কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম দিকে মহিলাদের জন্য একটি নতুন ছোট সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

হুক্কা খানার উপরেই একটি কক্ষ রয়েছে যার নাম বালা খানা (মহিলাদের বসার স্থান) যা ৩৬০ বর্গফুট/ ৩৪ বর্গমিটার, যেখান থেকে মহিলাগণ জারি খানার উপরের দেয়ালের ফাঁক দিয়ে মজলিশ শোনেন ও দেখেন।

 

গাজিউদ্দিনের সমাধি

প্রধান সিঁড়ির বিপরীতে পূর্ব দিকে নওয়াব গাজিউদ্দিন হায়দারের সমাধি রয়েছে যেখানে আটটি কবর রয়েছে যাকে মাকবার-এ নায়েবে নাজিম বলা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন নায়েবে নাজিমের নাম (তাঁদের সময়কালসহ) নিচে দেয়া হলো :

*নওয়াব নুসরাত জাঙ্গ, ১৭৯৬-১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব শামসুদ্দৌলা, ১৮২৩-১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব কামারুদ্দৌলা, ১৮৩২-১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ।

*নওয়াব গাজিউদ্দিন হায়দার, ১৮৩৬-১৮৪২ খ্রিস্টাব্দ।

মাকবারাটি ১৯৮৫ সালের কোন এক সময়ে ভেঙ পড়ে। এখন ভবনের সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু তহবিলের অভাবে ছাদসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

 

নওবাত খানা  (ঢোল বাজানোর স্থান)

প্রধান প্রবেশ পথের উত্তরে প্রায় ১,০৫৬ বর্গফুট/ ১০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত দুই তলাবিশিষ্ট ভবনকে নওবাত খানা বলা হয়; আগেকার দিনে যখন লাউড স্পিকার ইত্যাদি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না তখন জনসাধারণকে মুহররমের মজলিশের সময় সম্পর্কে অবগত করার জন্য এখান থেকে নওবাত (ঢল) বাজানো হতো। হোসেইনী দালানের সম্মুখে এটি মেহরাববিশিষ্ট একটি সুন্দর ভবন।

 

গাঞ্জ-ই শহীদান এবং কোতোয়ালি ভবন

হোসেইনী দালান কমপ্লেক্সে নওবাত খানার সাথেই প্রায় ১,৮০০ বর্গফুট/ ১৭০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে একটি ভবন আছে। এই ভবনের দুটি অংশ রয়েছে। এর একটি উত্তরমুখী এবং এর ২০-২৫ ফুট একটি মেহরাব রয়েছে যেটাকে গাঞ্জ-ই শহীদান বলে, যেখানে ১৫ ফুটবিশিষ্ট তাজিয়া রাখা হয় যা প্রতি বছর আশুরার মিছিলের (১০ মুহররম) সময় বের করা হয়। দ্বিতীয় অংশটি পূর্বমুখী; টাকে কোতোয়ালি (মুহররমের সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের থাকার স্থান) বলে। এই ভবনের দ্বিতীয় তলা মুহররমের সময় পুলিশ ফোর্স থাকার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং নিচ তলা ব্যবহৃত হয় যুলযানাহকে (ইমাম হোসাইন (আ.)-এর ঘোড়ার স্মরণে সাজানো ঘোড়া) রাখার জন্য- যে ঘোড়াটিকে মুহররমের ৮ম, ৯ম এবং আশুরা (১০ম)- এই তিনটি দিবস মুহররম মিছিলের জন্য বের করা হয়।

 

পশ্চিম দিকে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন সংলগ্ন পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই ভবনটি ১৯৮৫ সালে কিছুসংখ্যক বিদেশী ব্যক্তিত্ব এবং (হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির) চেয়ারম্যান জনাব এম. এম. ইসপাহানী সাদরীর অনুদানে নির্মিত হয়। এটি একটি দ্বিতল ভবন যার নিচতলায় টয়লেটসহ দুটি বড় কক্ষ রয়েছে এবং দ্বিতীয় তলায়ও দুটি বড় কক্ষ রয়েছে। এই ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৯০০ বর্গমিটার।

নিচতলার কক্ষগুলো মাদরাসা হিসাবে ব্যবহৃত হয় যেখানে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত বালক ও বালিকাদের কোরআন ও দীনিয়াত তথা মৌলিক ধর্ম শিক্ষা দেয়া হয়। আশপাশের এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ জন ছাত্রছাত্রী সন্ধ্যায় এ ক্লাসে উপস্থিত হয়। দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ রয়েছে, একটি কক্ষ পেশ ইমাম ও জুমআর নামাযের ইমামের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং অপর কক্ষটি সুপারিনটেনডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) এর অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

 

গোসল খানা

আধুনিক পদ্ধতিতে টাইলসের মেঝে, দেয়াল ইত্যাদি দিয়ে পুরাতন ছোট টিনশেডবিশিষ্ট গোসল খানা (গোসল খানা ও মৃতদেহ ধোয়ার স্থান) সংস্কারের জন্য প্রথম দায়িত্ব নেন জনাব মোহাম্মাদ আলী, কিন্তু কিছু অনিবার্য কারণে তিনি সম্পূর্ণ কাজের ৪০% ভাগও সম্পন্ন করতে পারেননি।

যাহোক, হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য জনাব মীর এনায়েত আলী অবশিষ্ট কাজ খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেন। উঁচু প্লাটফর্ম এবং একজন মানুষের উচ্চতার সমান করে টাইলসের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। মৃতদেহ ধোয়ার জন্য যে ৩ (তিন) ধরনের পানির সংযোগ প্রয়োজন তাও বসানো হয়েছে।

 

দালান ও নওবাত খানার মধ্যবর্তী প্রাঙ্গণ

দালানের ভবন এবং নওবাত খানার মধ্যে ২৩০ ফুট (উত্তর-দক্ষিণ) x ১৫০ ফুট (পশ্চিম-পূর্ব) অর্থাৎ ৩৪,৫০০ বর্গফুট (৩,৩৬৬.২৯ বর্গমিটার) এলাকায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ রয়েছে। এই খোলা জায়গা ছাড়া প্রায় ১২,২৪০ বর্গফুট/ ১,১৫৮.৮ বর্গমিটার এলাকা শিয়া ইসনা আশারীদের জন্য কবরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ৮ ফুট প্রশস্ত কাঁচা রাস্তা এই প্রাঙ্গণকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। মীর্জা আব্বাস মেয়র থাকাকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৪ সালে একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে।

 

পুকুর এবং উত্তর দিকের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থান

পুকুর এবং উত্তর দিকের খোলা জায়াগায় প্রায় ১৬০ ফুট (পশ্চিম-পূর্ব) x ৪২ ফুট (দক্ষিণ-উত্তর) অর্থাৎ ৬,৭২০ বর্গফুট/ ৬৩৬.২২ বর্গমিটার স্থানও কবরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

 

দক্ষিণ গেট এবং পূর্ব দিকের দেয়া ও পুকুরের মধ্যবর্তী স্থান

তোপখানা রোডের দিক দিয়ে অনুরাগীদের প্রবেশ করার জন্য দক্ষিণের গেট ব্যবহৃত হয়। পুকুরের পাড় এবং পূর্ব দিকের দেয়ালের মধ্যকার প্রায় (৩২ x ১৮২) ফুট অর্থাৎ ৬,০০৬ বর্গফুট/ ৫৬৮.৬২ বর্গমিটার জায়গা দক্ষিণ গেট দিয়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 

উত্তর দিকের সড়কের সীমানা প্রাচীর এবং নওবাত খানা, গাঞ্জে শহীদান ভবনের মধ্যবর্তী খোলা জায়গা

প্রধান প্রবেশ পথের সামনে খোলা জায়গার পরিমাণ প্রায় (১৬২ x ২৭) ফুট অর্থাৎ ৪,৩৭৩ বর্গফুট/ ৪১৪.১১ বর্গমিটার। ১৯৮৫-৮৬ সালে এই স্থানে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা ডিআইটি (ঢাকা উন্নয়ন ট্রাস্ট) কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। কারণ, তাদের অভিমত অনুযায়ী এটি হোসেইনী দালানের সৌন্দর্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 

হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা

প্রাচীন সৌন্দর্যমণ্ডিত হোসেইনী দালানের প্রতিষ্ঠাতা মীর মুরাদের মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই স্বাধীনভাবে তাঁর নিজের তহবিল থেকে হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কাজ পরিচালনা করতেন।

১১৩১ হিজরিতে মীর মুরাদের মৃত্যুর পর থেকে ঢাকার নায়েবে নাজিমগণ হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন এবং খরচ নির্বাহের জন্য খালসা থেকে বাৎসরিক ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশ) রুপী দিতেন (খান বাহাদুর সাইয়্যেদ আওলাদ হাসান, মুন্সী রহমান আলী তায়েস, ড. ধানী প্রণীত গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত)। মুতাওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী নায়েবে নাজিমগণের কয়েকজনের নাম এ প্রবন্ধেরই গাজিউদ্দিনের সমাধি শিরোনামের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশেষ নায়েবে নাজিম গাজিউদ্দিন হায়দারের মৃত্যুর পর হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনায় একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। একটি পর্যায়ে যখন মুহররম নিকটবর্তী হলো তখন হোসেইনী দালানের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকার তকালীন কালেকটর ব্রিটিশ সম্রাটের নিযুক্ত তকালীন বাংলার লর্ড অকলোন-এর কাছে একটি চিঠি লেখেন, যিনি হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার জন্য কলকাতা থেকে বার্ষিক ২,৫০০ রুপী অনুমোদন করেন মরহুম গাজিউদ্দিন হায়দারের বাসরিক ভাতা থেকে।

১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে অনানুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি তৈরি করা হয়। এই কমিটির প্রধান ছিলেন নওয়াব খাজা আলীমুল্লাহ (ঢাকার নওয়াব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা)। আলীমুল্লাহর মৃত্যুর পর খাজা আবদুল গনি তত্ত্বাবধায়ক হন এবং পরবর্তীকালে একটি অফিসিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে (অর্ডার নং ২৬৭৮ (রাজনৈতিক), সরকারি অর্ডার ডেট ১৮ই আগস্ট, ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ) খাজা আহসানুল্লাহ হোসেইনী দালানের ঋণ প্রশাসক নিযুক্ত হন। তাঁর সময়ে একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয় এবং দালানের উত্তর দিক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাজা আহসানুল্লাহ এটি পুনঃনির্মাণ করেন এবং পূর্ব দিকের অংশ সরিয়ে ফেলেন। রূপার জারি মোবারক- যা প্রতি বছর মুহররমের দশটি দিন কাঠের জারিকে মোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তা খাজা সলিমুল্লাহর অনুদানে প্রাপ্ত। নওয়াব পরিবার কর্তৃক হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার পরিসমাপ্তি ঘটে খাজা হাবিবুল্লাহর মৃত্যুর মাধ্যমে (পাদুখাপ কর্তৃক প্রকাশিত, মোস্তফা কামাল রচিত হোসেইনী দালান গ্রন্থ থেকে নেয়া, প্রকাশকাল ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ)

১৯৫৯ সালে নওয়াব হাবিবুল্লাহর ইন্তেকালের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নিম্নোক্ত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে :

*জনাব (বিচারপতি) এম. এ. ইসপাহানী (হাইকোর্টের জজ)- চেয়ারম্যান

*অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব)- পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

*মেজর নওয়াব খাজা হাসান আসকারী- সদস্য

*হাজী গোলাম হোসেন সিরাজী- সদস্য

জনাব (বিচারপতি) এম. এ. ইসপাহানীর পদত্যাগের পর ড. সাইয়্যেদ এজাজ হোসাইন জাফরী চেয়ারম্যান হন। তাঁর মৃত্যুর পর এম. এ. ইসপাহানী পুনরায় চেয়ারম্যান হন।

 

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ব্যবস্থাপনা কমিটি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নিম্নোক্তভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি পনুর্গঠন করা হয় :

*জনাব সাইয়্যেদ ইশতিয়াক আহমেদ- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল

*জনাব মীর্জা আলী এ. সিরাজী- সদস্য

*ড. সাইয়্যেদ ওয়াকীল আহমেদ- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ মনজুর হোসাইন- সদস্য

*অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব)-পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

এটি ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের (শাখা-৫) অর্ডার নং ২৭৩, তারিখ ১০ জুন, ১৯৭৫ অনুযায়ী

 

উপ-কমিটির গঠন

হোসেইনী দালানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৯৭৫ সালেই নিম্নোক্ত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটি (কার্যনির্বাহী কমিটি) গঠন করে :

*জনাব মীর্জা শামসাদ আলী- সভাপতি, হোসেইনী দালানের সুপারিনটেনডেন্ট।

*জনাব সাইয়্যেদ আকরাম হোসাইন- সদস্য/ সচিব

*জনাব মীর এনায়েত আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ সাফদার আলী- সদস্য

*জনাব এম. এম. সাদেক- সদস্য

কার্যত এই উপ-কমিটিই হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত।

 

হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থায়ন

৩৭৫ বছর পরও হোসেইনী দালানের বার্ষিক খরচ নির্বাহের জন্য সরকারি মঞ্জুরী মাত্র ২৬০০ (দুই হাজার ছয় শত) টাকা যা হোসেইনী দালানের দশ দিনের খরচ নির্বাহের জন্যও যথেষ্ট নয়।

কর্মচারীদের বেতন বা মজুরি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাৎসরিক চুনকাম, মুহররমের মিশিল, মজলিশ অনুষ্ঠান ইত্যাদি বাবদ বাৎসরিক বিপুল খরচের পরিমাণ হলো প্রায় ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা যা চেরাগী বাক্স-এর মাধ্যমে (প্রায় তিন লাখ টাকা বাৎসরিক) এবং অন্যান্য ভক্ত-অনুরাগীদের অনুদানের মাধ্যমে মিটানো হয়।

পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয় না, কেবল অতি জরুরি বিষয়াদির ক্ষেত্র ছাড়া

 

নতুন নির্মিত উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর (১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ)

মহল্লার লোকদের দ্বারা উন্মুক্ত জায়গার অপব্যবহার রোধ করার জন্য ১৯৮৯ সালে একজন অনুদানদাতার ১,০৫,০০০ (এক লাখ পাঁচ হাজার) টাকা অনুদানে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। অবশিষ্ট টাকা অনুদান দেন মরহুম চেয়ারম্যান জনাব এম. এম. ইসপাহানী এবং অন্যরা।

 

হোসেইনী দালানের ভিত্তিপ্রস্তরের ওপরের লেখনি

হোসেইনী দালানের প্রধান সিঁড়ির নিকট স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে নিচের বাক্যটি খোদাই করা রয়েছে : সেই সম্রাটের রাজত্বকালে যার গৌরব মহান, যাঁর খ্যাতি বিশ্বজোড়া, যাঁর রাষ্ট্র শক্তিশালী। সাইয়্যেদ মুরাদ এক হাজার বায়ান্ন হিজরিতে এই শোক স্মরণের ভবন নির্মাণ করেন।

*জনাব মীর্জা আলী বেহরুজ ইসপাহানী, চেয়ারম্যান

*অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (রাজস্ব)-পদাধিকার বলে সদস্য/ সচিব।

*জনাব এম. এম. ফায়েজ সিরাজী- সদস্য

*ক্যাপ্টেন সাইয়্যেদ আলী আসগার রিজভী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ আলী জওহার রিজভী- সদস্য

*জনাব মীর এনায়েত আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ তাকী মোহাম্মাদ- সদস্য

*জনাব আখতার হোসাইন- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ বশীর আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ইলতেফাত হোসাইন- সদস্য

*জনাব এম. এম. বাদশা সিরাজী- সদস্য (পদাধিকার বলে), উপদেষ্টা, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া

*জনাব এম. এম. ফিরোজ হোসাইন- সুপারিনটেনডেন্ট, হোসেইনী দালান ইমামবাড়া

 

উপ-কমিটির সদস্যগণ

*জনাব মীর্জা ফিরোজ হোসাইন- সুপারিনটেনডেন্ট।

*জনাব মীর্জা সাইয়্যেদ ইমদাদ আলী

*জনাব সাইয়্যেদ নাজিম আলী

*জনাব মীর্জা মো. আকীল

*জনাব সাইয়্যেদ সাজিদ হোসাইন

*জনাব সাইয়্যেদ মেহদী রেজা

*জনাব মীর জুলফিকার আলী

*জনাব মীর্জা ফররুক হোসাইন

*জনাব সাইয়্যেদ বাকের রেজা মাজলুম

*জনাব আবদুল হাই

*জনাব সাইয়্যেদ আতহার আলী

*জনাব সাইয়্যেদ ফাসীহ হোসইন

*জনাব সাইয়্যেদ ফিদা হোসাইন তাবাতাবায়ী

 

হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার বহৎ মেরামত এবং উন্নয়ন কমিটি

*জনাব মীর এনায়েত আলী- চেয়ারম্যান

*জনাব মীর্জা জহির আলী- ভাইস চেয়ারম্যান

*জনাব সাইয়্যেদ ফিদা হোসাইন- সদস্য

*জনাব মীর্জা আহমেদ হাসান সিরাজী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ আতহার আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ফাইয়াজ হোসাইন- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ রওশন হোসাইন- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ওয়াজেদ হোসাইন- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ শাহ আলী আবু- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ ইমরোজ আলী- সদস্য

*জনাব সাইয়্যেদ জামাল বেবাহানী- সদস্য

 

হোসেইনী দালানের উন্নয়ন (জুলাই ১৯৯৩- জুন ১৯৯৪ খ্রি.):

হোসেইনী দালান প্রাঙ্গণের উত্তর গেট থেকে পাকা রাস্তা:

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র জনাব মীর্জা আব্বাস এমপি, যিনি ১৪১২ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রি.) পবিত্র ইমামবাড়া পরিদর্শন করেন, তিনি নিজেই প্রত্যক্ষ করেন যে, হাজারো ভক্ত-অনুরক্ত হাঁটু পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। জনাব মীর্জা আব্বাস (এমপি) হাজারো ভক্ত-অনুরক্তের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ অনুধা করেন এবং হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানান যে, তিনি একটি উঁচু পাকা রাস্তা তৈরি করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। দুই বছরের মধ্যে মীর্জা আব্বাস তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন। এমন একটি মহৎ কাজের জন্য মীর্জা আব্বাসের ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

শেফা খান হিসাবে কোতোয়ালি ভবনের পুনঃনির্মা

হোসেইনী দালানের উত্তর-পশ্চিম দিকের প্রায় ৮০% কাঠামো ৯০-এর দশকে ভেঙে পড়ে। এটাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং একই আকৃতির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়। ভবনের ভিত এবং নিচ তলার নির্মাণ খরচ হোসেইনী দালানের তহবিল থেকে বহন করা হয়। দ্বিতীয় তলার পুরোটাই হোসেইনী দালানের ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম এম. এম. ইসপাহানীর (সাদরী) সৌজন্যে হোসেইনীয়া ট্রাস্ট কর্তৃক নির্মিত হয়। তখন এই ভবনটিকে শেফা খানায় (বিনামূলে চিকিৎসাখানা) পরিবর্তন করা হয় এবং ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের মাননীয় প্রথম সেক্রেটারী জনাব গর্জিযাদে এবং জনাব এম. এম. ইসপাহানী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়। দারুল কোরআন ফাউন্ডেশনকে তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে ২ (দুই) জন ডাক্তার, একজন জি.পি. এবং একজন দন্তচিকিৎসক প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন অধিক রোগীকে সেবা দান করেন। এখান থেকে দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূলে ঔষধও সরবরাহ করা হয়।

 

নওবাত খানার সংস্কার এবং হোসেইনী দালান লাইব্রেরির স্থানান্তর

ঢাকার দারুল কোরআন ফাউন্ডেশন নওবাত খানাকে সুন্দরভাবে সংস্কার করে এবং এই ভবনেলাইব্রেরিটিকে স্থানান্তর করে। ১৪১৫ হিজরির ৩রা সফর (১৩ই জুলাই, ১৯৯৪) হযরত ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.)- বাকের-উল উলুম-এর শুভ জন্মদিনে দারুল কোরআন ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাব এম. এম. ইসপাহানী, হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ এবং কিছুসংখ্যক বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ১৪১৫ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে (আগস্ট, ১৯৯৪ খ্রি.) আনুষ্ঠানিকভাবে এই চমৎকার লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন হযরত আয়াতুল্লাহ শাহরুখী।

 

উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকের প্রধান অভ্যন্তরীণ রাস্তার বাম ও ডান পাশে ধনুকাকৃতির সীমান প্রাচীর

হোসেইনী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা নুরুস সাকলায়েন জনকল্যাণ সংস্থা ভক্তদের অনুদানের মাধ্যমে প্রধান অভ্যন্তরীণ রাস্তার উভয় পাশে বাগানসমৃদ্ধ এই প্রাচীরটি তৈরি করে।

 

হোসেইনী দালানের পুকুরের পঃনির্মাণ ও মেরামত

হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার পুকুরের তিন দিকের দেয়াল ও সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে খুবই নাজুক অবস্থায় ছিল; ২০০১ সালে এটার পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং মেয়র মো. হানিফের নির্দেশনায় এবং ওয়ার্ড কমিশনার মরহুম গোলাম মোর্শেদের প্রচেষ্টায় ২০০৩-২০০৪ সালে এর কাজ শেষ হয়। প্রাঙ্গণের বর্ধিত সৌন্দর্যে এখন এটি একটি নতুন রূপ পেয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন হোসেইনী দালান কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকের দেয়াল ঘেঁষে ভক্ত-অনুরক্তদের জন্য টয়লেটও নির্মাণ করে দেয়

 

নতুন উন্নয়ন (১৯৯৬-২০০৫ খ্রিস্টাব্দ) : প্রধান ভবনের মেরামত, সংস্কার এবং পুনঃনির্মাণ

হোসেইনী দালানের প্রধান ভবন ১৯৮০ সাল থেকে একটি খারাপ অবকাঠামো এবং ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। প্রতি বছর হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির সীমিত আর্থিক সামর্থ্য দ্বারা ছোটখাটো মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হতো, কিন্তু ছাদ এ খারাপ অবস্থায় ছিল যে, আশঙ্কা করা হতো, আল্লাহ না করুন, যে কোন দিন তা ভেঙে পড়বে। যা হোক, ১৯৯৬ সালে ছাদ, সিলিং এবং ভবনের অন্যান্য অংশের মেরামত ও সংস্কারের জন্য সার্বিকভাবে একটি পরিকল্পনা করা হয়। এই ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার জন্য মাঝে মাঝেই দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী সকল ভক্ত-অনুরক্তের কাছে আর্থিক সহায়তা করার জন্য আবেদন জানানো হয়। হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য ১৯৯৫ সালে ইরান ভ্রমণ করেন। তিনি সেখানে তৎকালীন মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব হাশেমী রাফসানজানীসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সৌভাগ্যবশত মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব হাশেমী রাফসানজানী যখন ১৯৯৬ সালে ঢাকা সফরে আসেন তখন তিনি তাঁর মহামান্য সহধর্মিনী খানম রাফসানজানীকে হোসেইনী দালান ইমামবাড়া পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন হোসেইনী দালানের প্রধান ভবনের মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা অনুদান প্রদানকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তিত্ব। এরপর হযরত এস. এম. নাকী শাহরুখী মাঝে মাঝেই অনুদান দিতেন। এরপর হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম সাদরী ইসপাহানীর বিশাল অনুদান এবং অধিকাংশ মুমিনা এতে শরীক হন। পুনঃনির্মাণ, মেরামত, সংস্কার, রং করা ইত্যাদি কাজে ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে প্রায় ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা ব্যয় করা হয়। পুরাতন স্থাপত্য নকশা বজায় রেখেই পুরো ছাদ, সিলিং, দেয়াল, মেঝে ইত্যাদি পুনঃনির্মাণ, মেরামত বা সংস্কার করা হয়। তিনটি তলায় (দুটি প্রধান কক্ষ ও উত্তর দিকের বারান্দায়) এবং প্রধান সিঁড়ির দিকে পূর্ব পার্শ্বের বারান্দায় মোজাইকের কাজ করা হয়। হযরত আয়াতুল্লাহ শাহরুখীর সৌজন্যে টাইল্‌স দিয়ে অভ্যন্তর ভাগের দেয়ালের ডেকোরেশন করা হয়। তিনি এ বিশেষায়িত কাজের জন্য ইরান থেকে কারিগরদের নিয়ে আসেন। তিনি একটি চমৎকার অলংকৃত বাতির ঝাড়ও অনুদান দেন। আরেকটি বাতির ঝাড় একজন ভক্ত দান করেন।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির নিম্নলিখিত পরিকল্পনাগুলো রয়েছে :

গাঞ্জ-এ শহীদান ভবনের পুনঃনির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার- যেটা খারাপ ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোন দিন ভেঙে পড়তে পারে। এর জন্য আনুমানিক ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার অধিক প্রয়োজন হবে।

শেফা খানাকে (কোতোয়ালি ভবন) চতুর্থ তলা পর্যন্ত বর্ধিতকরণ।

পশ্চিম পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ বানানো, বর্তমানে যেখানে ইমাম-ই জুমআ বসবাস করেন এবং যেখানে হোসেইনী দালানের অস্থায়ী অফিস রয়েছে, যেটা হোসেইনী দালানের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং সভাগুলোও অনুষ্ঠিত হয়।

গাঞ্জ-এ শহীদান ভবনের উত্তর-পশ্চিম কোনার নিকট নিরাপত্তা রক্ষীদের থাকার জন্য টয়লেটসহ একটি ছোট কক্ষ বানানো।

 

হোসেইনী দালানের দারোগাগণ (সুপারিনটেনডেন্ট)

 

ক্র.নং

নাম

সময়কাল

মরহুম মীর এমদা আলী

১৯ শতকের মধ্যভাগ

মরহুম সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ আলী আলীয়াস মামদু মীর্জা

সম্ভবত ১৯ শতকের শেষাংশ

মরহুম আগা মীর্জা মোহাম্মাদ কাযেম সিরাজী

মামদু মীর্জার পর থেকে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ জাফর সিরাজী আলীয়াস জুলকাদার (জুলু মিয়া)

১৯১৫-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ হাশেম সিরাজী

তাঁর পিতার (জুলু মিয়া) মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ দিন

মরহুম মীর্জা মোহাম্মাদ হোসাইন

১৯৫২-১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

মরহুম মীর্জা শামসাদ আলী

১৯৭৩-১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

জনাব এম. এম. বাদশা সিরাজী

১৯৯৫-২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

জনাব মীর্জা ফিরোজ হোসাইন

বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট (নিয়োগপ্রাপ্তির দিন ১লা এপ্রিল ২০০৭)

          

হালনাগাদ (সর্বশেষ আপডেট): ১০-১২-২০১২ ইং।

সূত্রসমূহ :

১। হোসেইনী দালান ইমামবাড়ার সুপারিনটেনডেন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য

২। হোসেইনী দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জনাব এম. এম. ফায়েজ সিরাজী কর্তৃক প্রণীত পুস্তিকা হোসেইনী দালান ২০০৬ থেকে সংগৃহীত।

 

অনুবাদ:

মো: আসিফুর রহমান।

(সদস্য, সম্পাদনা পরিষদ নিউজ লেটার)

 

ট্যাগ: হোসেইনী দালান, ঢাকা, পুরাকীর্তি, ইমাম হোসাইন, ইমামবাড়া, পুরাতন ঢাকা, ঐতিহাসিক, খান বাহাদুর, নিজামাত, নওয়ারা, মীর মুরাদ, গভর্নর, শিয়া, নায়েব নাযিম, সুবেদার,, নাজিমুদ্দিন রোড, োপখানা, বকসি বাজার, খাজা হাবিবুল্লাহ, পিয়ারু মিয়া, পুকুর, জারি খানা, ইমাম হাসান, পতাকা, জারি, নামায, ফাতেমা যাহরা, মজলিশ, শাহাদাত, হুক্কা খানা, বালা খানা, কবর, সমাধি, মাকবারা, নওবাত খানা, আশুরা, মেহরাব, কোতোয়ালি, যুলযানাহ, মুহররম, কোরআন, দীনিয়াত, মাদরাসা, ধর্ম শিক্ষা, ইসনা আশারী, কবরস্থান, মীর্জা আব্বাস মেয়র, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, হোসেইনীয়া ট্রাস্ট, শেফা খানা, ইরান, দারুল কোরআন, রাফসানজানী, আয়াতুল্লাহ

Add comment


Security code
Refresh

Developed By: Rashed Hossain Najafi
Ya Hussain A.S